দৌলতপুরে বিএনপিতে যোগদান ঘিরে পাল্টাপাল্টি দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোঃ আসাদুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
শনিবার দৌলতপুর উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লার হাত ধরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে তার দলত্যাগ ও বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিএনপির জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাদের মতে, নতুন সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দল আরও শক্তিশালী হবে।
নবনিযুক্ত বিএনপি নেতা মোঃ আসাদুল হক বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি বিএনপির নেতৃত্বে যুক্ত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারে বিএনপিই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই যোগদান নিয়ে ভিন্ন দাবি তুলেছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে জামায়াতের নেতা হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, আসাদুল হক মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিএনপিতে যোগদানের পর অনলাইন মাধ্যমে তাকে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতারা পাল্টা দাবি করে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি জামায়াতের একটি “নাটক” ছাড়া আর কিছু নয়। বিএনপির এক নেতা বলেন, অতীতেও দেখা গেছে, অনেক ব্যক্তি সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছেন। কেউ কেউ আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের নেতা হয়েছেন। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লব সফল না হলে এসব ব্যক্তিই আবার ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন এবং জামায়াতে ইসলাম তখন তাদের অস্বীকার করত।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, এটি একটি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও দ্বিচারিতার উদাহরণ, যা জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ফুল দিয়ে নতুন সদস্যকে বরণ করে নেন এবং তার রাজনৈতিক পথচলায় শুভকামনা জানান।
ঘটনাটি ঘিরে দৌলতপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।



