দৌলতপুরে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বিঘ্নের চেষ্টা, বিএনপির প্রচারণায় হামলা; পুলিশ-সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার পরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। উপজেলার ১৩ নম্বর খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়ীয়া বাজার ও শ্যামনগর এলাকায় ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পিপুলবাড়ীয়া বাজার এলাকায় ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মী সোহান ও বিএনপি কর্মী নজরুল মালিথার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছু সময় পর জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. আরোজ উল্লাহ ও জামায়াত নেতা শফিউল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিএনপি কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন উদ্দিন মালিথা, বিএনপি কর্মী বিপ্লব মালিথা ও তবিবুর মালিথাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দৌলতপুর থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, “দৌলতপুরে ভোটের পরিবেশ এখনো শান্তিপূর্ণ। বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো. আরোজ উল্লাহ দাবি করেন, তাদের এক কর্মীকে প্রোগ্রামে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করা যাবে না। বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখবেন।



