ধর্মগ্রন্থের আড়ালে মরণাস্ত্র! ভেনিসের ডজের সেই রহস্যময় ‘বাইবেল-বন্দুক’

চিফ রিপোর্টার আজিজুল হক
কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা বা স্পাই থ্রিলারে আমরা অনেক সময়ই বইয়ের ভেতর লুকানো অস্ত্র দেখে থাকি। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে বাস্তবেই এমন এক অদ্ভুত এবং মারাত্মক অস্ত্রের উদ্ভাবন হয়েছিল, যা আজও বিশ্বকে অবাক করে। এটি হলো ভেনিসের বিখ্যাত ডজ (তৎকালীন শাসক) ফ্রান্সেস্কো মোরোজিনির (Francesco Morosini) সেই ব্যক্তিগত ‘বাইবেল-বন্দুক’।
বাইবেলের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মৃত্যু
১৬১৯ থেকে ১৬৯৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই বিশেষ অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখলে এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি ল্যাটিন বাইবেল মনে হলেও, এর ভেতরে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বসানো ছিল একটি আস্ত বন্দুক। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বন্দুক চালানোর জন্য বইয়ের পাতা খোলার প্রয়োজন হতো না।
কীভাবে কাজ করত এই অদ্ভুত যন্ত্র?
সাধারণত সিনেমায় দেখা যায় বইয়ের পাতা কেটে অস্ত্র লুকানো হয়, কিন্তু মোরোজিনির এই বাইবেলের মেকানিজম ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বইটির ভেতরে সিল্কের একটি বুকমার্ক বা ফিতা লাগানো ছিল। মালিক যখনই সেই ফিতাটি টেনে দিতেন, তখনই বইয়ের ভেতর থাকা ট্রিগার সক্রিয় হয়ে গুলি ছুটে যেত। অর্থাৎ, কারো সাথে কথা বলতে বলতেই বা প্রার্থনা করার ভান করেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ক্ষমতা রাখত এই গোপন অস্ত্রটি।
কোথায় আছে এই অমূল্য সৃষ্টি?
ফ্রান্সেস্কো মোরোজিনি ভেনিসের ইতিহাসের একজন প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং শাসক ছিলেন। তার জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই বিশেষ কারিগরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই বিরল ঐতিহাসিক নিদর্শনাটি ইতালির ভেনিসে অবস্থিত ‘মিউজিও করের’ (Museo Correr) নামক জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এটি দেখার জন্য আজও পর্যটকরা সেখানে ভিড় জমান।



