ডেস্ক রিপোর্ট  সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় টিউবওয়েল বসানোর সময় মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় হঠাৎ করে টিউবওয়েলের মুখ দিয়ে পানি ওঠার পাশাপাশি গ্যাসও বের হতে শুরু করে। টিউবওয়েলের মুখে কাপড় লাগিয়ে আগুন ধরালে সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের জন্ম দেয়। একই স্থানে পুনরায় আরেকটি টিউবওয়েল বসানো হলে সেখান থেকেও একইভাবে গ্যাস নির্গত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো ধরনের মোটর বা চাপ ছাড়াই টিউবওয়েল থেকে পানি ও গ্যাসের বুদবুদ একসঙ্গে উঠছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই এলাকায় এর আগেও ভূগর্ভে গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়েছে। জানা যায়, ধর্মপাশা সংলগ্ন এলাকায় ‘সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র’ নামে একটি সম্ভাবনাময় গ্যাস ক্ষেত্র চিহ্নিত রয়েছে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, টিউবওয়েল খননের সময় ভূগর্ভস্থ গ্যাসস্তরে আঘাত লাগায় প্রাকৃতিক চাপের কারণে গ্যাস উপরের দিকে উঠে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে গ্যাসের ধরন ও ঝুঁকি নিরূপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের গ্যাস নির্গমন এলাকায় আগুন ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহারের আগে পানি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও মত দেন তারা। এদিকে এলাকাবাসী বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশা, এই ঘটনার মাধ্যমে যদি ভূগর্ভস্থ কোনো গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সম্ভাবনা চিহ্নিত হয়, তাহলে তা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।