নাটোর। থেকে বিশেষ প্রতিনিধি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর-২ (সদর–নলডাঙ্গা) আসনে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী এক নির্বাচনী চিত্র। দলীয় রাজনীতি ও পারিবারিক সম্পর্কের সমন্বয়ে এবার ভোটের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন স্বামী ও স্ত্রী—যা ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তাঁরই সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে গত ১ জানুয়ারি তাঁদেরসহ মোট ছয়জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই পরিবারের দুই সদস্যের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন রাজনৈতিকভাবে ব্যতিক্রমী, তেমনি আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁদের দাখিল করা হলফনামায় ঘোষিত আয় ও সম্পদের তথ্য। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকে স্বামীর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। হলফনামায় সাবিনা ইয়াসমিন নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৮ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৭২ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা স্বামীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ রয়েছে। ঘোষিত আয়ের বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৯ টাকা। অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বাকি অংশ বিভিন্ন আর্থিক পরিসম্পদ থেকে অর্জিত। একই করবর্ষে তাঁর প্রদত্ত আয়কর ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৬ টাকা। দুলুর হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৪ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা। তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে তাঁর বিনিয়োগ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য মেয়াদি আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার ১৬১ টাকা। তাঁর মালিকানায় রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিযোগিতাই নয়, বরং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভোটারদের আস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একই ঘরের দুই প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন ভোটাররা—সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে নাটোর-২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন।