মন্তব্য প্রতিবেদন, আজিজুল হক  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ইংরেজিতে করা একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। পোস্টটিতে চাকুরিজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করার মতো ঘৃণ্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। চাপের মুখে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ভেরিফায়েড পেজ থেকে প্রকাশিত এমন গুরুতর বক্তব্যের দায় কি এত সহজে “হ্যাক” অজুহাতে এড়ানো যায়? ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যটা কী? ইসলাম কখনোই নারীর অবমাননাকে সমর্থন করে না। কুরআন ও হাদিসে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত। মহানবী (সা.) নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে চাকুরিজীবী নারীদের অবমাননা—ইসলামের শিক্ষা নয়, বরং ইসলামের সঙ্গে প্রতারণা। চাকুরিজীবী নারীরা আজ শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, প্রশাসক ও শ্রমজীবী হিসেবে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। তাদেরকে অবমাননাকর ভাষায় হেয় করা শুধু নারীদের নয়, পুরো সমাজ ও ইসলামের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত। জামায়াতের রাজনীতিতে দ্বিচারিতা জামায়াতে ইসলামী নিজেদের “ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতি”র দাবিদার হলেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখায় নারীবিদ্বেষী বক্তব্য বারবার সামনে আসে ভুল স্বীকারের বদলে দায় এড়ানোর কৌশল ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুরক্ষা নেওয়ার প্রবণতা এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে, জামায়াত ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ না করে ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে—যা ইসলাম নিজেই নিষিদ্ধ করেছে। এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়; এটি জামায়াতে ইসলামীর মানসিকতা ও রাজনৈতিক ভণ্ডামির প্রতিচ্ছবি। ইসলাম নারীর সম্মান রক্ষা করে, আর জামায়াত সেই ইসলামকেই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ধর্মের নামে নারী অবমাননা—এটা ইসলাম নয়, এটা রাজনীতির কুৎসিত রূপ। ‘হ্যাক’ অজুহাতে দায় এড়ানো নেতৃত্ব থেকে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।