নির্বাচনী ব্যয় ও অনুদান নিয়ে স্বচ্ছতার ঘোষণা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের

ডেস্ক রিপোর্ট
নির্বাচনী ব্যয় ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তার নির্বাচনী আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন।
নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত থাকায় তার নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দাঁড়ায় ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা।
অনুদান সংগ্রহের বিস্তারিত হিসাব
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, তার ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি পরিচালনাকারী অ্যাডমিনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে মোট অনুদান জমা হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা, যা নির্ধারিত ব্যয় সীমার তুলনায় প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বেশি।
মাধ্যমভিত্তিক অনুদানের পরিমাণ—
বিকাশ মারফত: ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা
নগদ মারফত: ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা
ব্যাংক হিসাবে জমা: ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা
অতিরিক্ত অনুদান বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নির্ধারিত ব্যয় সীমার অতিরিক্ত অনুদানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ ও নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন,
“স্বচ্ছতার স্বার্থে অনুদান সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নিয়মিত অডিট করে প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।”
পাশাপাশি তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকারের যেকোনো আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে অডিট কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
দাতা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল অনুদানদাতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, হাজার হাজার মানুষ ফোনকল ও বার্তা পাঠালেও সবার উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি—এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয় ও অনুদান বিষয়ে প্রকাশ্য হিসাব প্রদান এবং আগাম অডিটের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত অনুদান বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে চলার ঘোষণা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থার বার্তা দেয়।
এ ধরনের উদ্যোগ নির্বাচনী সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



