পোস্টার নিষিদ্ধ: নির্বাচনী প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ, প্রার্থীদের করণীয়

চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ পরিবেশ রক্ষা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।এবার প্রার্থীদের প্রচারণার ক্ষেত্রে
কিছু নতুন বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।এতে প্রার্থীরা এমন কিছু করতে পারবেন না, যা আগের নির্বাচনে অনুমোদিত ছিল।নির্বাচন কমিশন মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাবে।
পোস্টার কেন নিষিদ্ধ নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পোস্টার ব্যবহারে নগর ও গ্রামাঞ্চলে দেয়াল লিখন বৃদ্ধি পায় এবং সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নির্বাচন শেষে এসব পোস্টার অপসারণের ব্যয় বহন করতে হয়, যা সাধারণ জনগণের জন্যও অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া অতিরিক্ত পোস্টার ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থীরা প্রচারণায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যায়।এসব বিবেচনায় এবার পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রার্থীরা যা করতে পারবেন না পোস্টার ও ব্যানার কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন বা প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা যাবে না।দেওাল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, সড়ক বা সরকারি ভবনে প্রচারসামগ্রী ঝোলানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সরকারি সুবিধা ব্যবহার সরকারি গাড়ি, অফিস বা রাষ্ট্রীয় অর্থ নির্বাচন প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না।দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক ব্যবহার-ধর্ম, সম্প্রদায় বা বর্ণকে ভোট প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা যাবে না।মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা বা অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
টাকা ও উপহার বিতরণ ভোটারদের টাকা, উপহার বা সুবিধা প্রদান করা আইনত দণ্ডনীয়।ভোট কেনাবেচার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোডাউন ও যানজট সৃষ্টি বড় বহর নিয়ে শোডাউন করা যাবে না।জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে মিছিল করা নিষিদ্ধ।অনুমতি ছাড়া কোনো সভা-সমাবেশ আয়োজনও আইনবিরোধী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া তথ্য, গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো যাবে না।ডিজিটাল মাধ্যমেও আচরণবিধি প্রযোজ্য থাকবে।
অবাস্তব প্রতিশ্রুতি,আইন বা সংবিধানবিরোধী কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না।সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে ভোট চাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিকল্প প্রচারণার সুযোগ পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীরা-নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রচারণা চালাতে পারবেন।লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ, সীমিত পরিসরে মাইকিং, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্রচার করার সুযোগ থাকবে।তবে সব ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
আইন লঙ্ঘনের শাস্তি,নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা হতে পারে।প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
উপসংহার-পোস্টারমুক্ত নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়।এটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
নিয়মের কঠোর প্রয়োগ এবং সকল প্রার্থীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করলে দেশে গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে।



