বাগেরহাট প্রতিনিধি: রবিউল মোল্লা এর তথ্য চিত্রে রিপোর্ট।   বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা এলাকায় প্রতিদিনই টনকে টন চিংড়ি মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এই চিংড়ি বিদেশি বাজারে রপ্তানি হয়ে দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ চিংড়ি রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ফলতিতা মৎস্য আড়ত বর্তমানে অন্যতম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এখানে চিংড়ির বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এ সময় মাছ চাষিরা তাদের নির্ধারিত ঘের ও চাষের স্থান থেকে পরিপক্ব চিংড়ি সংগ্রহ করে ফলতিতা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামে এসব চিংড়ি বিক্রি করতে পারায় চাষিরাও সন্তুষ্ট। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফলতিতা বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এসে চিংড়ি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এসব চিংড়ি ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন বিদেশি বাজারে রপ্তানি করা হয়। ফলতিতা মৎস্য আড়ত শুধু স্থানীয় মৎস্য চাষীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে না, বরং পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার, বরফ কারখানা ও সংশ্লিষ্ট বহু পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে পুরো এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফলতিতা চিংড়ি বাজারকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এতে করে দেশের রপ্তানি আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।