বাংলাদেশের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ব্যবস্থাপনা, তাদের অধিকার এবং দণ্ড কার্যকরের নিয়মাবলী কঠোরভাবে ‘বাংলাদেশ জেল কোড’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তথ্যে এই বন্দিদের আবাসন, খাদ্য, আইনি সহায়তা এবং দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। জেল কোডের বিভিন্ন ধারা (Rule) অনুযায়ী এই নিয়মগুলো পরিচালিত হয়। নিচে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নির্ধারিত কারাবিধিগুলো তুলে ধরা হলো: ১. আবাসন ও প্রাথমিক অধিকার
  • মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাধারণ বন্দিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়।
  • পৃথক সেল ও নিরাপত্তা: জেল কোডের রুল ১৮০ ও ৯৮৪ অনুযায়ী, প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা সেলে (কনডেম সেল) রাখা হয় এবং তাদের সেলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
  • ব্যক্তিগত সরঞ্জাম: রুল ৯৮১ অনুযায়ী, ব্যবহারের জন্য বন্দিদের ১টি অ্যালুমিনিয়ামের কাপ, ১টি প্লেট এবং ১টি বাটি সরবরাহ করা হয়।
  • পোশাক ও তল্লাশি: কারাগারে প্রবেশের সময় বন্দির নিজস্ব পোশাক সরিয়ে জেল কোড নির্ধারিত বিশেষ পোশাক দেওয়া হয়। রুল ৯৮১ ও ৯৮৭ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় বন্দির শরীর ও সেল তল্লাশি করা বাধ্যতামূলক।
২. খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি
  • বন্দিদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়াকড়ি নিয়ম।
  • খাদ্যের মান: রুল ৯৮৮ অনুযায়ী, বন্দিদের জেল কোডের বিধি ১১০০ মেনে ‘ডিভিশন-২’ অথবা ‘ডিভিশন-৩’ স্কেলে খাবার সরবরাহ করা হয়।
  • তদারকি: খাবার বিতরণের সময় জেলার বা ডেপুটি জেলারকে উপস্থিত থেকে খাবারের গুণমান পরীক্ষা করতে হয় (রুল ৯৮৮, ৯৮৯)।
  • বাইরের খাবার নিষেধ: জেলের বাইরে থেকে আনা কোনো প্রকার খাবার, মিষ্টি বা বাড়তি মিষ্টান্ন বন্দিকে দেওয়ার অনুমতি নেই (রুল ৯৮৮)।
৩. আইনি ও ব্যক্তিগত অধিকার
  • চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকরের আগে বন্দিরা কিছু বিশেষ আইনি ও ব্যক্তিগত অধিকার ভোগ করেন।
  • আপিল ও প্রাণভিক্ষা: দণ্ডাদেশ পাওয়ার পর বন্দি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। রুল ৯৯০ ও ৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার আবেদন করার জন্য বন্দি ১৫ দিন সময় পান।
  • সাক্ষাৎ ও দর্শনার্থী: রুল ৯৮৯ অনুযায়ী, অনুমতি সাপেক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং আইনজীবীরা বন্দির সাথে দেখা করতে পারেন।
  • ধর্মীয় ও পাঠাভ্যাস: বন্দিরা ধর্মীয় উপদেশ গ্রহণ এবং অনুমতি সাপেক্ষে বই বা সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ পান (রুল ৯৮৯)।
৪. চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকরের নিয়ম
  • দণ্ড কার্যকরের দিন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্যও সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
  • কার্যকরের সময়: রুল ১০০১ ও ১০০৩ অনুযায়ী, সাধারণত ভোরবেলা বা দিনের শুরুতে দণ্ড কার্যকর করা হয়। এই সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেল সুপার উপস্থিত থাকেন।
  • মরদেহ হস্তান্তর: রুল ১০০৬ ও ১০০৭ অনুযায়ী, মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পর মেডিকেল অফিসার মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ আত্মীয়দের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আত্মীয়রা গ্রহণ না করলে জেল কর্তৃপক্ষ সৎকারের ব্যবস্থা করে।