নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আয়েশা আক্তারের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক ও বর্বর কাহিনী। বাবার অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলার ‘অপরাধে’ নিজ বাবাই চাচাকে দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করান মেয়েকে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর চাচার দ্বারা মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের মতো জঘন্য ঘটনার কথাও উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। ঘটনার নেপথ্য ও কারণ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদার সঙ্গে আয়েশার সমবয়সী এক মেয়ের নিয়মিত অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আয়েশা দেখে ফেলে এবং তার বোন ও প্রবাসে থাকা মাকে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে পরিবারে তীব্র কলহ সৃষ্টি হয়। নিজের তথাকথিত ‘সম্মান’ বাঁচাতে এবং পথের কাঁটা সরাতে বাবুল নিজের মেয়েকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এই কাজে তিনি তার ভাই রুবেল প্যাদাকে ব্যবহার করেন এবং হত্যার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনও হয়। হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও জবানবন্দি গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নিহতের চাচা রুবেল প্যাদা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে বাবা বাবুল প্যাদার সহায়তায় রুবেল ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর আয়েশাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, হত্যার পর চাচা রুবেল মৃত আয়েশাকে ধর্ষণ করেন। পরে মরদেহটি বস্তাবন্দী করে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যান তারা। পুলিশের বক্তব্য পুলিশ জানায়, নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তারা তদন্তে নামেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা ক্লু খুঁজে পান। পুলিশের মতে, বাবার নির্দেশে নিজের সন্তানের ওপর এমন বর্বরতার ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও নজিরবিহীন। এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও দাবি মেয়ের রক্ষক হয়ে বাবার এমন ভক্ষক রূপ দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু একটি শিশুকে হত্যা নয়, এটি পুরো সমাজের বিবেককে গলাটিপে হত্যার শামিল। জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।