বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন নুরু সিকদারের করিমগঞ্জে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসে নতুন সমীকরণ

চীফ রিপোর্টার, আজিজুল হক
করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নাজমুল সাকি, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নুরু সিকদার’ নামে পরিচিত, আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাঁর এই ফিরে আসাকে করিমগঞ্জ-তাড়াইল এলাকার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুর রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা পরবর্তীতে আবারও নিজ রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করেন।
মঙ্গলবার সকালে তিনি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুকের বাসভবনে উপস্থিত হন। সেখানে ড. ওসমান ফারুকের হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে পুনরায় যোগদান করেন নুরু সিকদার।
এ সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জাহিদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। উপস্থিত নেতাদের মতে, নুরু সিকদারের প্রত্যাবর্তন তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, একই দিন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নুরু সিকদারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এই প্রত্যাহার কার্যকর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর একজন পরিচিত তৃণমূল নেতার দলে ফেরা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের ঘটনা নয়; বরং এটি আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সক্রিয় করার ইঙ্গিত বহন করে।



