চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের একটি ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআনের তালিম বা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই ঘোষণার পেছনে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট এবং সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট ধর্ম উপদেষ্টা এই বক্তব্যটি মূলত উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং আধুনিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয় করার লক্ষ্য থেকে দিয়েছেন। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছালেও মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান ও শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন। উপদেষ্টার মতে, একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় আমলা হওয়ার পাশাপাশি যেন একজন নৈতিকতাবান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার একটি সহায়ক পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। মূলত যারা স্বেচ্ছায় শিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল প্রেক্ষাপট। প্রতিবেদনের মূল বিষয়সমূহ: ১. ঐচ্ছিক সুযোগ: এটি কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর বাধ্যতামূলক শিক্ষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন একটি পরিবেশ বা সেন্টার তৈরির কথা বলা হয়েছে যেখানে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তিলাওয়াত ও এর অর্থ শিখতে পারে। ২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা: উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রিসোর্স সেন্টারগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ৩. নৈতিকতার উন্নয়ন: মাদ্রাসার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও যেন ইসলামের প্রকৃত ও শান্তিপূর্ণ বার্তা পৌঁছায়, সেটিকে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান অবস্থা সরকারি পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি নীতিগত পরিকল্পনা বা প্রস্তাবনা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এটি বাধ্যতামূলক কোনো কোর্স হিসেবে চালু করার কোনো প্রশাসনিক আদেশ এখন পর্যন্ত জারি হয়নি। মূলত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই উপদেষ্টা এই আহ্বান জানিয়েছেন। উপসংহার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরঞ্জন দেখা যায়। তবে উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল সুর হলো—উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে যেন ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন বাধাগ্রস্ত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা যেন আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।