ব্যর্থ সামরিক আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের মৃত্যুদণ্ড দাবি, চূড়ান্ত শুনানি ফেব্রুয়ারিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সিউল
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা। ব্যর্থ সামরিক আইন জারি ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ আটটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত দেশটির প্রাক্তন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ দাবি করেছে স্পেশাল প্রসিকিউশন বেঞ্চ। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই এই স্পর্শকাতর রিটের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুতর অভিযোগ ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
স্পেশাল আইনজীবী বেঞ্চ আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বেআইনিভাবে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মোট আটটি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনজীবীরা এই অপরাধগুলোকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
আদালতে ইউনের কড়া প্রতিবাদ
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা এমন ভয়াবহ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। একই আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানান।
বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোটাই “উন্মাদনা” এবং এর পেছনে “বিকৃত মানসিকতা” কাজ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কারচুপির মাধ্যমে সাজানো হয়েছে এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া চূড়ান্ত শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো দক্ষিণ কোরিয়া তথা বিশ্ববাসী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং আদালত প্রসিকিউশনের দাবি মেনে নিলে তা দেশটির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হবে।



