ভয় জয় করল নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব: অসুস্থ বন্ধুর পাশে শুয়ে সিটিরুমে অনন্য নজির

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কিশোরগঞ্জ: বন্ধুত্বের কোনো সংজ্ঞা হয় না, কিন্তু কিছু দৃশ্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বন্ধুত্বের গভীরতা কতটুকু। তেমনই এক অভূতপূর্ব ও মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হলেন স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী ও রোগীরা। অসুস্থ বন্ধুর ভয় কাটাতে সিটস্ক্যান (CT Scan) মেশিনের ভেতরে পাশে শুয়ে থেকে সাহস জোগালো তার প্রিয় বন্ধু।
জানা গেছে, শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে চিকিৎসকরা তাকে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের গুমোট পরিবেশ আর বিশাল আকৃতির সিটি স্ক্যান মেশিন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি। ভয় আর অসহায়ত্বে বারবার তার চোখ ভিজে উঠছিল।
প্রায় ২–৩ ঘণ্টা ধরে মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিশুটি কোনোভাবেই একা সেই রুমে ঢুকতে রাজি হচ্ছিল না। পরিস্থিতি যখন স্থবির হয়ে পড়ে, তখন পরিবার থেকে ডাকা হয় তার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে—তার প্রিয় বন্ধুকে।
প্রিয় বন্ধু আসতেই শিশুটির অর্ধেক ভয় যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেল। তবে তার শর্ত ছিল একটাই— সে একা যাবে না, বন্ধুকেও সাথে নিয়ে যেতে হবে। বন্ধুর সাহসী আশ্বাস আর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিতে অবশেষে সে রাজি হয়।
হাসপাতাল কক্ষে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। যান্ত্রিক সেই ঠান্ডা মেশিনের ভেতরে পাশাপাশি শুয়ে আছে দুই বন্ধু। একজনের শরীরে অসুখ, আর অন্যজনের মনে বন্ধুকে সুস্থ দেখার ব্যাকুলতা। ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বন্ধুর হাতটি শক্ত করে ধরে সে বুঝিয়ে দিল— "তুই একা নোস, আমি আছি।"
এই ছোট্ট বন্ধুদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সেখানে উপস্থিত সবার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। এটি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল যে, বন্ধু মানে শুধু একসাথে খেলাধুলা নয়, বরং জীবনের কঠিন আর ভয়ের সময়ে হাতটি শক্ত করে ধরে পাশে থাকাই প্রকৃত বন্ধুত্ব।
পৃথিবীর সব বন্ধুত্ব এমন অটুট থাকুক—এই কামনাই আজ সবার মুখে।
ছবি: জোবায়েদ হোসেন।



