মানুষ পূজার চেয়ে মূর্তি পূজা ভালো’

স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম তানভীর
“মানুষ পূজা থেকে মূর্তি পূজা অনেক ভালো”—জামায়াতে ইসলামী নেতা শাজাহান চৌধুরীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, ইসলামিক অঙ্গন ও সাধারণ নাগরিক সমাজেও বিভ্রান্তি ও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। একজন ইসলামিক দলের নেতা হিসেবে এমন বক্তব্য ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসন ও দাওয়াতি ভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইসলামে তাওহিদ বা একত্ববাদের ধারণা সর্বোচ্চ মৌলিক অনুশাসন। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী মূর্তি পূজা যেমন স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, তেমনি মানুষকে ‘পূজার বস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করাও ইসলামী আকিদা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। শাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে এই দুই নিষিদ্ধ ধারণাকে তুলনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ইসলামী বক্তব্যে যেখানে শিরক থেকে মানুষকে সতর্ক করার কথা, সেখানে মূর্তি পূজাকে তুলনামূলকভাবে ‘ভালো’ বলা ধর্মীয় অনুশাসনের মৌলিক কাঠামোকেই দুর্বল করে দেয়।
ইসলামের দাওয়াতি পদ্ধতিতে সংযম, প্রজ্ঞা ও সৌন্দর্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে—হিকমাহ ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান জানাতে। কিন্তু এই বক্তব্যে সেই ভারসাম্য অনুপস্থিত। বরং এটি বিভ্রান্তিকর উপমা ও চরম ভাষার মাধ্যমে ধর্মীয় বক্তব্যকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
একজন ইসলামিক দলের নেতার মুখে এমন ভাষা ইসলামের প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্য হিসেবে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
এই মন্তব্য ইসলামিক অঙ্গনে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি ব্যক্তিগত মত, নাকি দলীয় চিন্তার প্রতিফলন? পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে, ইসলামের অবস্থান কি সত্যিই এমন তুলনার অনুমোদন দেয়। ধর্মীয় বক্তব্যের এমন অস্পষ্টতা সমাজে ভুল ব্যাখ্যা ও মতবিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে নেতাদের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং ধর্মীয় দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশও। সেই জায়গা থেকে দেখলে এই মন্তব্য দায়িত্বশীল বক্তব্যের সীমা অতিক্রম করেছে বলেই বিবেচিত হচ্ছে। বহুধর্মীয় সমাজে এমন বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক সহাবস্থানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
শাজাহান চৌধুরীর বক্তব্য ধর্মীয় অনুশাসন, ইসলামিক দাওয়াতি ভাষা এবং মানবমর্যাদার মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে। একজন ইসলামিক দলের নেতা হিসেবে এমন মন্তব্য শুধু ধর্মীয় ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং ইসলামিক অঙ্গন ও সাধারণ নাগরিক সমাজে বিভ্রান্তিরও জন্ম দিয়েছে। ফলে এই বক্তব্য নতুন করে ধর্ম, রাজনীতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।



