মো: হাফিজুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার, বাগেরহাট।  বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সেখ বনি আমিন বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এ বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৫ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি.) বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে সেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ সিদ্দিকুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিক্ষিত ও নৈতিক প্রজন্মের উপর। এই বিদ্যালয় থেকে যে মেয়েরা শিক্ষালাভ করছে, তারাই আগামী দিনে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ মিরাজুল ইসলাম রাজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বালিকা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একটি শিক্ষিত মা মানেই একটি শিক্ষিত জাতি। মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সেখ বনি আমিন বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকার ও সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়াতে হবে।” তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ যারা ভালো ফলাফল অর্জন করেছো, তোমরাই আগামী দিনে দেশের গর্ব হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।” বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোর কুমার দাস। তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করছে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে মেয়েরাও সব ক্ষেত্রে সফল হতে পারে। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও অভিভাবকদের সহযোগিতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।” অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য দেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তালেব সরদার। তাঁরা বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আমরা অভিভাবকরা সবসময় পাশে থাকবো।” অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজি কুমার নাথ। তাঁর প্রাঞ্জল ও সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হুমায়রা আক্তার এবং গীতা পাঠ করেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী যুথিকা দাস, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা দে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাফল্যই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও আমরা শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।” এরপর বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। ফলাফল অনুযায়ী কৃতী শিক্ষার্থীরা হলেন— ষষ্ঠ শ্রেণী: প্রথম: শ্রুতি দেবনাথ দ্বিতীয়: জাকিয়া আক্তার তৃতীয়: শিবানী রানী দাস সপ্তম শ্রেণী: প্রথম: অন্তিম দেবনাথ দ্বিতীয়: প্রীতি দেবনাথ তৃতীয়: সুমাইয়া আক্তার অষ্টম শ্রেণী: প্রথম: পায়েল দাস দ্বিতীয়: নুসরাত জাহান তৃতীয়: বিশিতা রানী দাস নবম শ্রেণী: প্রথম: মোসাঃ সানজিদা খাতুন দ্বিতীয়: প্রত্যাশা দাস তৃতীয়: অরণী দাস দশম শ্রেণী: প্রথম: হুমাইরা আক্তার দ্বিতীয়: তিথি রানী দাস তৃতীয়: যুথিকা দাস অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সাফল্য অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে বলে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।