রহমতের বার্তা নিয়ে আসছে মাহে রমজান: আমাদের প্রস্তুতি ও করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাফেজ মাওলানা মোঃ বাকি বিল্লাহ:
বছর ঘুরে আবারও মুমিনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। এটি কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। শাবান মাস শেষের পথে, আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হবে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মহিমান্বিত মাস।
আত্মশুদ্ধির মহোৎসব
আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে মানুষ যখন পার্থিব ব্যস্ততায় ডুবে আছে, তখন রমজান আসে আত্মার খোরাক জোগাতে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রমজান হলো মুমিনের জন্য একটি 'ট্রেনিং সেশন'। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখার এবং সৎ কাজে অভ্যস্ত করার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।
প্রস্তুতি হতে হবে এখন থেকেই
রমজানের প্রস্তুতি কেবল বাজার সদাই করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত প্রস্তুতি হলো মানসিক ও আধ্যাত্মিক।
১. মানসিক সংকল্প: এখন থেকেই নিয়ত ঠিক করা এবং নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা।
২. রুটিন তৈরি: দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ইবাদতের জন্য সময় বের করার পরিকল্পনা এখন থেকেই করা উচিত।
৩. তওবা ও ইস্তেগফার: বিগত জীবনের ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে রমজান শুরু করা।
সামাজিক দায়বদ্ধতা
রমজান মাস সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এখন থেকেই গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যাতে তারাও নির্বিঘ্নে রোজা পালন করতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যেন সাধারণ মানুষের রমজানের আনন্দ ম্লান করতে না পারে, সেদিকে ব্যবসায়ী সমাজকে মানবিক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আলেম সমাজ।
পরিশেষে বলা যায়, রমজান আমাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনার সুযোগ নিয়ে আসে। আসুন, আমরা এই মাসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করি।



