চীফ রিপোর্টার, আজিজুল হক প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-কে এক রাজকীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাসম্পন্ন জানাজার মাধ্যমে জাতি শেষ বিদায় জানিয়েছে। বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-তে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষের ঢল নামে। এই জানাজা পরিণত হয় জাতীয় শোক ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের উপস্থিতি-রাষ্ট্রীয় আয়োজনে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, যারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী কাঠামোর এই উপস্থিতি বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ-এই ঐতিহাসিক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নেতৃত্ব, স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির হাজারো নেতাকর্মী নিজ নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে জানাজায় অংশ নেন। এছাড়াও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন —জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমিরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি)-এর নেতৃবৃন্দ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, জোট ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও এই উপস্থিতি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব-জাতীয় মসজিদের খতিবের ইমামতিতে জানাজার নামাজ পরিচালিত হয়। এতে ধর্মীয় আলেম, মাশায়েখ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন-জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয়। তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর পাশে। এই দাফনকে অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দুই শক্তিশালী অধ্যায়ের এক ঐতিহাসিক মিলন হিসেবে। এক যুগের অবসান-১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে স্থান করে নেন। পরবর্তীতে আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। জনতার হৃদয়ে চিরন্তন নেত্রী-জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা। অনেকেই তাঁকে স্মরণ করেন “গণতন্ত্রের মা”, “আপসহীন নেত্রী” ও “জনতার নেত্রী” হিসেবে। এক রাজকীয় জানাজায় বিদায় নিলেও ইতিহাস ও জনগণের স্মৃতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অমর হয়ে থাকবেন।