মোঃ আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলো আবারও ভেসে উঠছে আলোচনায় সমালোচনায়। রুহিয়াবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন ‘রুহিয়া উপজেলা’ হওয়া এবারও নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতির ঝুড়িতে জায়গা নিতে চলেছে।বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকা কালিন সময় বেশ কয়েকটি নির্বাচনের মাঠে রুহিয়া উপজেলা করা হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই দলের নেতাকর্মীরা, কিন্তু তাদের কথা কথায় রয়ে গেল কাজের কোন প্রমাণ পাওয়া গেল না।বিশ্লেষকরা মনে করছেন উন্নয়ন কর্মসংস্থান কিংবা স্বাস্থ্যসেবা এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পাশাপাশি এবার রুহিয়াকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি হয়ে উঠতে পারে নির্বাচনী বৈশিষ্ট্যের বড় হাতিয়ার। তবে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে যদি আবারও এটি হয় শুধুই ভোট পাওয়ার কৌশল তাহলে জনগণের আস্থা চূড়ান্তভাবে হারাতে পারে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে রয়েছে থানা, রেলস্টেশন, সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারিগরি ও উচ্চমাধ্যমিক সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভুক্ত পাঁচটি কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্যাংক, হাট-বাজার, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব প্রশাসনিক অবকাঠামো। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র এই রুহিয়া। এখানে বহু আগেই উপজেলায় রূপান্তরের যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু এখনও উপজেলায় রূপান্তরের কার্যকর কোনো ঘোষণা আসেনি। নির্বাচন আসলেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা আশ্বাস দেন এইবার রুহিয়া হবে উপজেলা! কিন্তু ভোট শেষ হলে সেই কথাগুলো হারিয়ে যায় ব্যস্ততার ভিড়ে। স্থানীয় একজন তরুণ বলেন, প্রতিবার শুধু শুনি রুহিয়া উপজেলা হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না। এবার আর কথায় নয় কাজে প্রমাণ চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেন, রুহিয়া উপজেলা হলে এখানকার উন্নয়ন গতি পাবে। জনদুর্ভোগ কমবে। আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার বাস্তব ঘোষণা দরকার। হঠাৎ জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই প্রতিশ্রুতি কি এবার বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি আগের মতোই আবার ভোট শেষে মিলবে শুধু নিরবতা? তারা বলছেন, আমরা উন্নয়ন চাই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়। আগামী নির্বাচনে যে-ই জিতুক বাস্তবে দেখতে চাই রুহিয়া উপজেলা। মোঃ মহিরুল ইসলাম সহ একাধিক তরুণ জানান, জন্মের পর থেকেই শুনছি রুহিয়া উপজেলা হবে। ভোট এলে প্রার্থীরা খুব দরদ দেখান, কিন্তু জেতার পর তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে। এবার যেই দল ক্ষমতায় আসুক না কেন কথার সাথে কাজের প্রমাণ না দিলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের চূড়ান্ত আস্থা হারাবে।