শনিবার এলেই তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র আদাবাড়িয়ায়বাসি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতি শনিবার বন্ধ থাকার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি কার্যদিবসে কেন্দ্রের মূল ফটকে তালা ঝুলে থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে শনিবার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। পুরো কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শনিবার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা থাকার কথা এবং নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তারা এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শনিবার এলেই কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ—সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে আমরা কোথায় যাবো? শনিবার এলে মনে হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, যেন কোনো পরিত্যক্ত ভবন।”
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রের ইনচার্জ ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) মো. মাহমুদুল ইসলাম পলাশ নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে তিনি অফিস চলাকালীন নিজের ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ওষুধ বিতরণ না হওয়ায় রোগীদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরকারি কাঠামো অনুযায়ী এই কেন্দ্রে একজন স্যাকমো, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও একজন আয়া থাকার কথা থাকলেও কাউকেই নিয়মিত কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী একটি জনবহুল এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে অবহেলিত হলে সরকারের জনস্বাস্থ্য লক্ষ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তারা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।



