শরিয়া বনাম প্রচলিত আইন: ইসলামী আন্দোলনের স্পষ্টতা, জামায়াতের কৌশল ও অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব

চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
মুফতি ফয়জুল করিমের বক্তব্যে জামায়াতের নীতিগত ত্রুটি প্রকাশ, ইসলামী আন্দোলনের আপসহীন অবস্থান
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “আমরা শরিয়া আইন নিয়ে দেশ পরিচালনা করব না, বরং প্রচলিত আইন-কানুন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য জামায়াতের কৌশলকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে—যেখানে আদর্শিক স্থিরতার পরিবর্তে বাস্তবতার হিসাব ও কৌশলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, “যারা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায় না, নাম দিয়ে ইসলামিক দল—তাদের চেয়ে বড় মোনাফেক দুনিয়াতে আর হতে পারে না। জামাত কেন শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে? তারা নিজেই শরীয়ত মানে না। জামাতের নায়েবে আমির সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকের ভিতরে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও নৈতিক চাপ খুঁজে পাওয়া যায় না। ইসলামী রাজনীতির মূল ভিত্তি কেবল কুরআন ও সুন্নাহ হতে পারে—কোনো কৌশল বা আপস নয়।
ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়ার পূর্ণ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা মনে করে, কোনো রাজনৈতিক চাপ, বাস্তবতা বা কৌশল ইসলামের মূল বিধানকে বাদ দিতে পারে না।
মুফতি ফয়জুল করিমের বক্তব্যে স্পষ্ট—ইসলামী আন্দোলন আদর্শিক স্থিরতায় আপসহীন। তারা বিশ্বাস করে, মুখে ইসলামের কথা বলা যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি নীতি ও আইন ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা জামায়াতের কৌশলকে প্রকাশ করেছে। শরিয়া নয়, প্রচলিত আইনকেই কেন্দ্রবিন্দু করা, এবং নিজেদের নেতৃবৃন্দের ভিতরে ইসলামের মৌলিক নৈতিক চাপের অনুপস্থিতি—এখানেই তাদের রাজনৈতিক কৌশল ও আদর্শের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট।
সমালোচকের মতে, এটি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠাচ্ছে। ইসলামী পরিচয় বহন করেও শরিয়ার বাস্তবায়নের প্রতি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকা, তাদের আদর্শিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের দৃষ্টিতে, শরিয়া কোনো রাজনৈতিক কৌশলের বিষয় নয়। মুখে ইসলামের কথা বলা আর কাজে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নিফাকের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।
মুফতি ফয়জুল করিম জামায়াতের অবস্থানকে এই দিক থেকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ও আদর্শিক স্থিরতা স্পষ্ট করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের ‘প্রচলিত আইন’-নির্ভর ঘোষণার প্রেক্ষিতে, মুফতি ফয়জুল করিমের মন্তব্য ইসলামী রাজনীতিতে আদর্শ বনাম কৌশল বিতর্ককে আরও পরিষ্কার করেছে।
একদিকে ইসলামী আন্দোলন—যারা শরিয়া প্রশ্নে আপসহীন, স্পষ্ট ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী;
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী—যারা আদর্শ থেকে সরে এসে কৌশলকে প্রাধান্য দিচ্ছে, এবং নেতৃবৃন্দের ভিতরে ইসলামের প্রকৃত নৈতিক চাপ অনুপস্থিত।
ইসলামী রাজনীতি কি আদর্শের জন্য, নাকি কৌশলের জন্য?



