বিশেষ প্রতিনিধি ফেনী থেকে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগে এক শিক্ষককে জরিমানা করার ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ মিয়া অভিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। তিনি আশরাফুল উলুম আকবরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সোনাগাজীর চরদরবেশ এলাকায় ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। এ সময় ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক মোশাররফ হোসেন শিক্ষার্থীদের এই প্রচারণায় অংশ নিতে উৎসাহ দেন। এমনকি প্রার্থী নিজেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রচারণায় সমর্থন জানান। ঘটনার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২৭(ক) ধারার আওতায় শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ মিয়া বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি পরিপন্থী। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসন এ ধরনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্রচারে যুক্ত করা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি শিক্ষার পরিবেশ ও শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অতিরিক্ত উৎসাহ অনেক সময় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এই ঘটনা নির্বাচনকালীন আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্রিয়তার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আর শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হতে পারে না।