বিশেষ প্রতিবেদন, আমাদের সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা পেশার মানুষ। তারা সমাজে যথাযথ মূল্য না পেলেও তাদের কর্মের ওপর ভিত্তি করেই টিকে থাকে আমাদের পরিবার ও দেশ। বাংলাদেশে অধিক জনসংখ্যার এই দেশে বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ রয়েছেন, যারা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। কেউ পত্রিকা বিক্রেতা, কেউ চালক, আবার কেউ অন্য কোনো পরিশ্রমে লিপ্ত। অন্যদিকে আমাদের সমাজে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পেশাজীবী আছেন, যেমন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় উচ্চবিত্ত বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা নিম্ন আয়ের মানুষদের ছোট করে দেখেন। তারা মনে করেন রিকশাচালক কিংবা মুচিরা সম্মানের যোগ্য নন। আসলে এই ধরণের হীনম্মন্যতা তাদের মানসিকতাকে অনেক নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। অথচ প্রতিটি ধর্মেই শ্রম ও শ্রমিকের মূল্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা নিজেদের পদমর্যাদা নিয়ে অহংকার করে, তারা পরকালে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা কোনো কর্মকেই ছোট করে দেখে না। প্রতিটি পেশাকে সমান গুরুত্ব দেয় বলেই তারা আজ উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। আমার বাবা একজন রিকশাচালক। তিনি যদি কাজ ছেড়ে দেন, তবে রাস্তায় চলাচলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমস্যা হবে। ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সময়মতো তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না। একজন ডাক্তার সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছালে রোগীর প্রাণহানি হতে পারে, আবার পরীক্ষার্থী সময়মতো না পৌঁছালে দেশ সুশিক্ষিত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত পেশা দিয়ে মানুষকে বিচার না করে প্রতিটি পেশাকেই যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া। লেখক -নাঈম ইসলাম