সীমান্তে বিএসএফ-এর ‘পুশইন’ তৎপরতা: আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে ১৪ ভারতীয়কে বাংলাদেশে পাঠাল ভারত

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া:
ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর (পুশইন) এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ব্যর্থ হওয়ার পর, কৌশল বদলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাংলাদেশে পাঠানোর আগে ওই ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আশ্রয়ণ বিওপি এলাকা দিয়ে প্রথম এই ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র জওয়ানরা তাৎক্ষণিক শক্ত অবস্থান নিলে এবং কঠোর বাধা দিলে বিএসএফ তাদের পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
দৌলতপুর সীমান্তে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফ তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে অত্যন্ত গোপনে ওই ১৪ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরিচিত কিছু মানুষকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়।
উদ্ধারকৃতরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, বিএসএফ তাদের পরিচয়পত্র ও আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা দর্শনা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সজাগ অবস্থানে রয়েছে।



