চীফ রিপোর্টার, আজিজুল হক  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদারকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সুতারপাড়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এক যৌথ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সুতারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুতারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরাদ হোসেন মমতাজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে করিমগঞ্জ উপজেলার সামগ্রিক বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থাকলেও সরকারি রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে সুতারপাড়া ইউনিয়নের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নদী বিল বাজার, জেডি ঘাট ও ফেরিঘাট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও এই ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে নির্বাচিত এমপি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো চেয়ারম্যানই সুতারপাড়ার জনগণের জন্য দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেননি। একসময়ের ২৫ হাত প্রস্থের রাস্তা আজ সংকুচিত হয়ে দেড় হাত প্রস্থে নেমে এসেছে—যা অবহেলা ও দুর্নীতির বাস্তব উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। রুহুল আমিন বলেন, “এই বাস্তবতায় সুতারপাড়া ইউনিয়নের মানুষ আজ পরিবর্তনের শপথ নিতে পারে। আলমগীর হোসাইন তালুকদারের মতো একজন সৎ, আল্লাহভীরু ও আদর্শবান মানুষকে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে পারলে করিমগঞ্জ উপজেলা ও সুতারপাড়া ইউনিয়নকে দুর্নীতিবাজদের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব।” সভায় বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটাতে হলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং নীতি ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভাটি সুতারপাড়া ইউনিয়নে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রশ্নে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে।