চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গৌর গোপাল সেবা আশ্রম পরিদর্শন শেষে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও স্বাধীনতার চেতনাকে কেন্দ্র করে তীব্র মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে অথচ বাস্তবে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে চেতনা বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। ক্ষমতা, চেতনা ও ফ্যাসিবাদের অভিযোগ শফিকুল আলম বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বেড়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে দলটি ফ্যাসিবাদ কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বিরোধিতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। তার মতে, স্বাধীনতার চেতনা কখনোই একদলীয় নিয়ন্ত্রণ বা গণমাধ্যম ও জনগণের ওপর দমন চালানোর হাতিয়ার হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে সেই চেতনাকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উপেক্ষা করার সংস্কৃতি দেখা গেছে। ভুল স্বীকার ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন প্রেস সচিব স্পষ্ট করেছেন, ভুল স্বীকার ও আত্মসমালোচনা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলই জনগণের আস্থা ফেরত পেতে পারে না। তিনি বলেন, “অতীতের হত্যাকাণ্ড, গুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের জন্য আজও দলটি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। তাই জনগণের আস্থা ফেরত আনা এখন আরও কঠিন হয়ে গেছে।” তরুণ সমাজ ও তথ্যযুদ্ধ শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তরুণ সমাজের আন্দোলনকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি সতর্ক করেছেন, তরুণরা এখন আরও বেশি সচেতন। বিভ্রান্তি ছড়ানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু একটি দলের সমালোচনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আদর্শের অভাবের ইঙ্গিত। স্বাধীনতার চেতনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে জনগণের অধিকার হরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পায়। উপসংহার স্বাধীনতার চেতনা কোনো দলের একক সম্পদ নয়। এটি জাতির সম্মিলিত অর্জন। সেই চেতনার যথার্থ প্রয়োগই গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল ভিত্তি। প্রেস সচিবের বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো শক্তি নয়, নৈতিকতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করা।