চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক দুইবারের নির্বাচিত মেয়র ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ নেতা হাজী মোঃ আবু তাহের মিয়া আর নেই। তিনি গত রাত ভোর আনুমানিক চারটায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক পরিমণ্ডল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে। হাজী মোঃ আবু তাহের মিয়া ছিলেন কিশোরগঞ্জ পৌর রাজনীতির এক সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দুই দফা পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন। রাজনৈতিক অবদান ও বিশ্লেষণ বিএনপির রাজনৈতিক দুঃসময়েও হাজী মোঃ আবু তাহের মিয়া ছিলেন আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নেতা। দলীয় সংকটকালে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাহস জোগানো এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তাঁর নেতৃত্বে ছিল সংযম, ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতার ছাপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মৃত্যু কিশোরগঞ্জ বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল। কারণ তিনি ছিলেন এমন একজন প্রবীণ নেতা, যাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল দল-মতের ঊর্ধ্বে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর মতো অভিভাবকতুল্য নেতার অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। শোক ও প্রতিক্রিয়া হাজী মোঃ আবু তাহের মিয়ার ইন্তেকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় নেতারা বলেন, “তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ ও জনদরদি রাজনীতিক। কিশোরগঞ্জবাসী একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারাল। হাজী মোঃ আবু তাহের মিয়ার জীবন ছিল ত্যাগ, সংগ্রাম ও জনসেবার এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও রাজনৈতিক পথচলা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।