তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া মাঠের পর মাঠ আগে যেখানে তামাকের উৎকট গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে থাকত, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে আধুনিক ও উচ্চমূল্যের সবজি স্কোয়াশ। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শশীধরপুর গ্রামে স্কোয়াশ চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এখন নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
৭০ দিনে কপাল ফিরল কৃষক নাসিরের
গতানুগতিক চাষাবাদ ছেড়ে 'যশোর অঞ্চল টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প'-এর আওতায় স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছিলেন স্থানীয় কৃষক নাসির উদ্দিন। ফলাফল হাতে নাতেই! মাত্র ৭০ দিনের পরিশ্রমে দুই বিঘা জমি থেকে তিনি প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করেছেন। মাঠ দিবসে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নাসির বলেন, "সঠিক প্রযুক্তি আর পরামর্শ থাকলে যে এত কম সময়ে ভাগ্য বদলানো সম্ভব, তা আগে কল্পনাও করিনি।"দৌলতপুর অঞ্চলে তামাক চাষের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জমির উর্বরতা রক্ষার তাগিদে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সাবেক তামাক চাষি শাহীন এবার স্কোয়াশ আবাদ করেছেন। তার মতে, তামাকের চেয়ে স্কোয়াশ অনেক বেশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আর্থিকভাবে লাভজনক।
প্রযুক্তির ছোঁয়া ও মাঠ দিবসের আয়োজন
সোমবার বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে শশীধরপুর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আধুনিক চাষাবাদ, নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান অতিথি: ড. মো. শওকাত হোসেন ভূঁইয়া (উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া)।বিশেষ অতিথি: ওয়াহিদুজ্জামান (অতিরিক্ত উপপরিচালক-শস্য), রেহানা পারভীন (উপজেলা কৃষি অফিসার), এবং মো. আলী আহমেদ (অতিরিক্ত কৃষি অফিসার)।কারিগরি সহায়তা: গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহমেদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. শাহানাজ আক্তার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।
আগামীর সম্ভাবনা । কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, স্কোয়াশ চাষ এই অঞ্চলের কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় এই সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এমন পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমূল্যের ফসলের সম্প্রসারণ ঘটলে দৌলতপুরের কৃষি অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।




