কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। 

ঘটনাটি বুধবার দুপুরে উপজেলার বরইতলী পহরচাঁদা বিবিরখিল মোস্তাক মিয়ার পুগেরবিল এলাকায় ঘটেছে। 


মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর নামে বিএস খতিয়ান ৬৭৯ ও ৭৪৯ এর ৮.৮২ একর জমি নিয়ে স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল কর্তৃক জবরদখলের আশংকা প্রকাশ করে মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর ছেলে এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর বিবিরখিল এলাকার মৃত ইব্রাহিমের পুত্র নুরুল হুদা ও জমির উদ্দিন, মৃত মোঃ জাকারিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম ও মোঃ শামসুল হুদার ছেলে আবুল বশর গং এর নামে চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি রুজু করেন। ভুক্তভোগী পরিবার মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


 স্থানীয় মৃত সোলেমান সিকদারের ছেলে ওসমান গনি জানান, বিরোধীয় জমির বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি, উক্ত মামলায় আমি ১১ নং বাদী ও সকল বাদী পক্ষের একমাত্র স্বাক্ষী। মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়ার পূর্বে আমরা জমিতে যাওয়ার পক্ষে নই। আমাদের কিছু ওয়ারিশ আদালতের নির্দেশনা আসার পূর্বেই জবরদখলে মেতেছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জবরদখল বন্ধ রাখার দাবি জানান। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদু শুক্কুর জানান, মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর বিশাল এই সম্পত্তি নিয়ে বিগত ২১ বছর পূর্বে আদালতে মামলা করে একটি পক্ষ। তখন থেকেই জমি গুলো খিলা হিসেবে ছিল। গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন সরকারের পতনের পর পরেই একটি চক্র জমি গুলো জবরদখলের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এখন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ওই চক্রটি আবারও জবরদখলের চেষ্টা করছে। আজ বুধবার চকরিয়া থানার একটা টীম জবরদখল কারীদের নিষেধ করে গেছে বলেও জানান তিনি। 

পার্শ্ববর্তী ৯নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী জমি দখলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাঁধার মুখে জবরদখল কারীরা পিছু হটে। নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে জবরদখল কারীরা আবারও জমিতে ধান রূপনের চেষ্টা করে। বিরোধ পূর্ণ জমিতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবার পূর্বে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। 


 মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর ছেলে এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৪২ ইং সনে আমাদের পুর্ব পুরুষের আর,এস রেকড়ীয় রওশন আলী ও মোশারফ আলীর ওয়ারিশ থেকে আমার দাদার ক্রয়কৃত । বি,এস ও এম,আর,আর খতিয়ান ও খাজনা আমার পিতার নামে । দলিল এক্সপার্ট হয়েছে এবং তাহা সঠিক হিসেবে প্রমাণিত হয়। মামলাটি বর্তমানে যুক্তি তর্কের জন্য দিন ধার্য্য আছে। মামলায় নিশ্চিত হারবে বলে জবরদখলের চেষ্টা করছে ভূমিদস্যু চক্র। 


অভিযুক্ত কামরুল আহসান জানান, জমি গুলো আমাদের নামে আরএস রেকর্ড রয়েছে। আমাদের জমিতে আমরা চাষাবাদ করছি, জবরদখলের বিষয়টি সঠিক নয়।

চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে থানার উপপরিদর্শক আরকানুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক নাসির আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশটীম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।