আজিজুল হক 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রপ্রধানদের কার্যালয়ে দলীয় নেতা বা আদর্শিক ব্যক্তিত্বের ছবি টানানোর প্রচলন দেখা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান তাঁর কার্যালয়ের শীর্ষে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” সংবলিত কালিমা টানিয়ে এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়েছেন—যা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবেন। সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেই অনেকেই এই উদ্যোগকে দেখছেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশের শাসক যখন তার কর্মপরিসরে কালিমায়ে তাওহীদের স্থান দেন, তখন তা কেবল একটি প্রতীক নয়—বরং ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতিরও ইঙ্গিত বহন করে।

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” মানুষের জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ঘোষণা দেয়, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থানের শিক্ষা দেয়। আর “মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ—যেখানে ছিল ন্যায়ভিত্তিক শাসন, ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সাম্য।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মদিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) যে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তা ছিল সুশাসন ও মানবকল্যাণের অনন্য দৃষ্টান্ত। যদি সেই আদর্শ বাস্তব নীতি ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়, তবে দেশ ও জাতির জন্য তা হতে পারে কল্যাণকর ও আশাব্যঞ্জক।

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতীকী এই পদক্ষেপ ইতিবাচক বার্তা দিলেও প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের উপর—ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই সেই অঙ্গীকার পূর্ণতা পাবে। আল্লাহ তাআলা যেন দেশকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন—এই প্রত্যাশাই সবার।

লেখক আজিজুল হক, কলামিষ্ট ও মানবাধিকার নেতা